Welcome To Sundarban TV ||সুন্দরবন টিভিতে আপনাকে স্বাগত || সুন্দরবন টিভি সুন্দরবনের মানুষের জীবন কথা

জন্মগত চর্মরোগের শিকার,স্কুলে ভর্তি হয়েও বন্ধ পড়াশোনা,চিকিৎসা খরচ জোগাতে নাভিঃশ্বাস,কোনক্রমে দিন গুজরান

 জন্মগত চর্মরোগের শিকার,স্কুলে ভর্তি হয়েও বন্ধ পড়াশোনা,চিকিৎসা খরচ জোগাতে নাভিঃশ্বাস,কোনক্রমে দিন গুজরান



বিগত প্রায় পঁয়ত্রিশ বছর আগের কথা।মেদনীপুরের তৎকালীন অখ্যাত নন্দীগ্রামের মেয়ে প্রতিমার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার সাগর ব্লকের মৃত্যুঞ্জয় নগরের বাসিন্দা উত্তম মুনিয়ান। শুরু হয় সুখের সংসারে দাম্পত্য জীবন।দম্পতির দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর থেকে পরিবর্তন হতে শুরু করে ছন্দময় সংসার জীবন।তৃতীয় সন্তানের জন্মের পর এই পরিবারের স্বল্প সুখের সংসার পুরোপুরি ভেঙে পড়তে শুরু করে।

জন্ম থেকেই মারাত্মক চর্মরোগে আক্রান্ত এই দম্পতির দুই পুত্র সন্তান।বর্তমানে বছর বাইশ বয়সের রাহুল মুনিয়ান আর বছর আঠারো বয়সের পূর্ণ মুনিয়ান।

ছোট থেকেই দম্পতির দুই সন্তানের বয়স বাড়লে ও চর্মরোগ থেকে সুরাহা মেলেনি।   বরং চর্মরোগ বেড়েই চলেছে থুই সন্তানের।

বিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও চতুর্থ শ্রেণীর বেশী পড়াশোনা হয়নি। তার একমাত্র কারণ স্কুলে ভর্তি হলে বিভিন্ন জনের আপত্তিতে বিদ্যালয়ে আর যাওয়া হয়ে ওঠেনি রাহুল অার পূর্ণ দুই ভাইয়ের।পড়াশোনা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় দুজনের। 

পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী পেশায় দীন মজুর উত্তম মুনিয়ান ভ্যান চালিয়ে কোনরকমে সংসার নির্বাহ করে থাকেন।প্রতিমা দেবীর স্বামী উত্তম মুনিয়ান বলেন “দুই সন্তানের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে একটু বাড়তি রোজগারের আশায় গঙ্গাসাগর মেলায় একটি  পানের দোকান দিয়েছি কিন্তু অন্যান্য দোকানে প্রচুর বিক্রি হলে ও সাধারণ ক্রেতারা আমার দোকানে এসে যখন আমার দুই ছেলেকে দেখতে পান তখন তাঁরা মুখ ফিরিয়ে নিয়ে অন্য দোকানে চলে যান।তারপর করোনা কালে সাগরে একেবারেই পূণ্যার্থীদর দেখা নেই বললে চলে।  তাই আগামী দিনে দুই ছেলেকে কিভাবে চিকিৎসা করাবো ভেবেই পাচ্ছিনা”। 

   

অভাব অনটন কে সঙ্গী করে স্বামীর সঙ্গে সহযোগিতার জন্য গঙ্গাসাগর মেলা প্রাঙ্গণে ছোট্ট দোকানটিতে দুই ছেলেকে নিয়ে পরসা সাজিয়ে বসেছেন উত্তম মুনিয়ানের স্ত্রী প্রতিমা দেবী,বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন অনেকদিন আগেই। প্রতিমা দেবী শুরু করেন গত প্রায় ২৭ বছর সংসার জীবনের করুণ কাহিনী।

তিনি বলেন “চর্মরোগের হাত থেকে দুই ছেলে কে সুস্থ করতে চাষের জমি,বিয়ের সমস্ত অলঙ্কার বিক্রি করেও সুস্থ করতে পারেননি।  বরং ওদের বয়স বাড়ার সাথে সাথে রোগটা ও যেন বেড়েই চলেছে।এমনই ভাবে সূর্য্যের আলোতে বের হতে পারে না। তারপর শীত কিংবা ফাল্গুন চৈত্র মাসের প্রখর তাপে সমগ্র শরীর ফেটে রক্ত ঝরে।মা হিসাবে খুব কষ্ট হয়।

কলকাতার এসএসকেএম সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের নানান অভিঞ্জ চিকিৎসকদের চিকিৎসা করিয়ে অর্থ শেষ হয়েছে। রোগ কিন্তু বেড়েই চলেছে।স্থানীয় নেতানেত্রী ছাড়াও সরকারী ভাবে বিভিন্ন দফতরে একাধিক বার গেলেও নিটফল শূণ্য।দীর্ঘদিন পর অবশ্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে চিকিৎসার জন্য দশ হাজার টাকা দিয়েছিলেন।প্রতিমাদেবী আবেদন করে বলেন অামরা এই গঙ্গাসাগর মেলা প্রাঙ্গণেই বরাবরই দোকান দিয়ে থাকি,প্রতি বছর মেলায় রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী,আমলা থেকে এম এল এ ,এমপি রা আসেন কেউ কোন দিন অামাদের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করেন নি।অসহায় ভাবে দুই সন্তানকে নিয়ে দিন কাটাতে হয়। আমি টাকা চাই না চিকিসায় যাতে সুস্থ হয়ে যায় আমার দুই সন্তান সেই ব্যবস্থা যদি রাজ্যের জনদরদী মাননীয়া মূখ্যমন্ত্রী মমতা দিদি করে দেন তাহলে হয়তো আমার দুই সন্তান সুস্থ হয়ে সমাজে মাথা উঁচু করে চলতে পারবে”।

অভাব অনটন যাঁদের নিত্যসঙ্গী,কিভাবে দুই ছেলের চিকিৎসা ব্যয়ভার সামলাবেন। সেই ভাবনাতেই উত্তম-প্রতিমার মূখের উজ্জ্বল হাসি

ম্লান হয়ে আসে।তারপর করোনার দাপটে সামান্য পানের দোকানে বিক্রিবাটা কম। ত্রেতারা আসেন না বললেই চলে।দম্পতির আশা দুই সন্তান সুস্থ হয়ে সমাজে সকলের সাথে মেলামেশা করুক।

Post a Comment

0 Comments