ক্যানিং থানার হোমগার্ডের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে গ্রেফতার অভিযুক্ত এসআই ।

ক্যানিং থানার হোমগার্ডের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে গ্রেফতার অভিযুক্ত এসআই ।

নিজস্ব প্রতিনিধি, ক্যানিং :
ক্যানিং থানায় কর্মরত হোমগার্ড গুলজান পারভিন মোল্লা ওরফে রেশমির রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে গ্রেফতার পলাতক অভিযুক্ত সাব-ইন্সপেক্টর সায়ন ভট্টাচার্য। ঘটনার পাঁচ দিন পর বৃহস্পতিবার উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃত এসআই-কে আলিপুর আদালতে পেশ করা হয়েছে। আদালতে তাঁর ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
পুলিশ জানিয়েছে, এই মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে আপাতত সেই তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বর্তমানে ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এদিকে ধৃত এসআই-এর স্ত্রী অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তাঁর স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, “ওই হোমগার্ডের যাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল, তাঁর নামও সায়ন। একজন ভালো পুলিশ অফিসারকে ফাঁসানো হয়েছে। যে ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে, তাতে স্পষ্ট বোঝা যায় অন্য কারও সঙ্গে ওই মহিলার সম্পর্ক ছিল। অথচ সেই ব্যক্তিকে কেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না?”
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর ক্যানিং থানার পুলিশ কোয়ার্টার থেকে উদ্ধার হয় হোমগার্ড গুলজান পারভিন মোল্লার ঝুলন্ত দেহ। তাঁর বাড়ি ক্যানিং ২ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত জীবনতলা থানার উত্তর মৌখালী এলাকায়। কোয়ার্টারের একটি ঘর থেকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হলেও, তদন্তে নেমে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত এসআই সায়ন ভট্টাচার্যের সঙ্গে পারভিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সায়ন বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও ওই সম্পর্ক বজায় ছিল বলে দাবি পরিবারের। এই সম্পর্কের জেরেই পারভিনকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে তাঁর পরিবার। আর এই ঘটনায় ক্যানিং জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের কাজ জোরকদমে চালানো হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন