কিস ডে হলো ভালোবাসার স্পর্শে সম্পর্ককে আরও গভীর ও মজবুত করার দিন।
প্রশান্ত সরকারঃ ভালোবাসা, স্নেহ ও মায়ার স্পর্শে সম্পর্কের বন্ধন ভ্যালেন্টাইনস সপ্তাহের ষষ্ঠ দিন হিসেবে প্রতি বছর ১২ ফেব্রুয়ারি পালিত হয় কিস ডে। সাধারণত এই দিনটিকে প্রেমিক-প্রেমিকার রোমান্টিক অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত করা হলেও, কিস বা চুম্বনের তাৎপর্য আসলে আরও গভীর ও বিস্তৃত। এটি শুধু প্রেমের নয়, বরং স্নেহ, মায়া, যত্ন ও নিরাপত্তার প্রতীক। তাই কিস ডে মানে শুধুমাত্র দম্পতির ভালোবাসা নয়—মা-সন্তান, পরিবার ও প্রিয়জনদের আন্তরিক সম্পর্কেরও এক মধুর প্রকাশ। একটি চুম্বন হতে পারে হাজার কথার চেয়েও বেশি শক্তিশালী।
প্রিয় মানুষের কপালে বা হাতে একটি আলতো চুম্বন জানিয়ে দেয় ভালোবাসা, বিশ্বাস ও পাশে থাকার আশ্বাস। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালোবাসার স্পর্শ মানুষের মানসিক চাপ কমায়, নিরাপত্তার অনুভূতি বাড়ায় এবং সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে তোলে। এই প্রসঙ্গে মা ও সন্তানের সম্পর্ক সবচেয়ে পবিত্র ও নিঃস্বার্থ উদাহরণ। শিশুর জন্মের পর মায়ের প্রথম স্পর্শ, কপালে একটি চুম্বন কিংবা ঘুম পাড়ানোর সময় আদরের আলতো চুম্বন—এসবই সন্তানের কাছে নিরাপত্তা ও ভালোবাসার প্রতীক হয়ে থাকে। সন্তানের দুঃখে, ভয়ে বা অসুস্থতায় মায়ের একটি চুম্বন যেন সব কষ্ট দূর করে দেয়।
এই ভালোবাসায় নেই কোনো শর্ত, নেই কোনো স্বার্থ—শুধুই মমতা।শুধু মা-সন্তান নয়, বাবা-মা, ভাই-বোন কিংবা পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও একটি স্নেহের চুম্বন সম্পর্ককে আরও উষ্ণ করে তোলে। তাই কিস ডে-কে কেবল রোমান্টিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পারিবারিক ভালোবাসার দিন হিসেবেও দেখা যেতে পারে। বর্তমানে তরুণ প্রজন্ম এই দিনটিকে নানা আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপন করলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভালোবাসা প্রকাশে শালীনতা ও সম্মান বজায় রাখা জরুরি। সম্পর্কের মর্যাদা ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এই দিন পালন করাই উচিত।
সব মিলিয়ে, কিস ডে হলো ভালোবাসার স্পর্শে সম্পর্ককে আরও গভীর ও মজবুত করার দিন। একটি ছোট্ট চুম্বন যেমন প্রিয়জনকে হাসি দিতে পারে, তেমনি মায়ের স্নেহের চুম্বন সন্তানের জীবনে সাহস ও শক্তি জোগায়। এই দিনে ভালোবাসার মানুষদের কাছে টেনে নিন, কপালে দিন একটুকরো স্নেহের চুম্বন কারণ ভালোবাসা প্রকাশেই তার আসল সৌন্দর্য। হ্যাপি কিস ডে।



