বাঘের আক্রমণে মৎস্যজীবির মৃত্যু,এলাকায় শোকের ছায়া ।
প্রতিকি ছবিসুভাষ চন্দ্র দাশ, ঝড়খালী : রুটি রুজির জন্য সুন্দরবনের নদীখাঁড়িতে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের কবলে পড়ে মৃত্যু হচ্ছে একের পর এক মৎস্যজীবির।সুন্দরবনে যেন শুরু হয়েছে মৃত্যু মিছিল। সুন্দরবনের গহীণ অরণ্য জঙ্গলের নদীখাঁড়ি কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারালেন ঝড়খালি ৪ নম্বরের গোপাল ঢালি(৪৫)। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে,পেটের টানে গত বৃহষ্পতিবার সুন্দরবন জঙ্গলের নদীখাঁড়িতে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলেন গোপাল। সাথে ছিলেন প্রতিবেশী সুমন মন্ডল ও অপর এক মৎস্যজীবি।অন্যান্য দিনের ন্যায় শনিবার বিকালে সুন্দরবনের দেউলভারানী জঙ্গল সংলগ্ন নদীখাঁড়িতে কাঁকড়া ধরছিলেন।
সেই সময় সুন্দরবন জঙ্গল থেকে একটি বাঘ বেরিয়ে নদীখাঁড়ির কাছে চলে আসে। গোপাল কে লক্ষ্য করে টার্গেট করতে থাকে। তখন ওই তিন মৎস্যজীবি আপন মনে কাঁকড়া ধরার জন্য নদীখাঁড়িতে দোন ফেলছিলেন। আচমকা গোপালের ঘাড়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঘ। তাকে টানতে টানতে হিড় হিড় করে জঙ্গলের ভিতরে নিয়ে যায়। সেই মুহূর্তে আক্রান্ত সঙ্গীকে উদ্ধার করার জন্য বাঘের সাথে লড়াই শুরু করে দুই মৎস্যজীবি। দীর্ঘ প্রায় ঘন্টাখানেক চলে বাঘে মানুষের লড়াই।বাঘ তার শিকার ছাড়তে নারাজ। হুঙ্কার দিয়ে দুই মৎস্যজীবিকে আক্রমণ করার চেষ্টা করতে থাকে।
পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে রণে ভঙ্গদেয় দুই মৎস্যজীবি। বাঘ তার শিকার কে টানতে টানতে গহীণ জঙ্গলে নিয়ে যায়। অন্যদিকে দুই মৎস্যজীবি ফিরে আসতে নারাজ। যেনতেন প্রকারে সঙ্গীকে উদ্ধার করেই বাড়িতে ফিরবে। দীর্ঘ সময় প্রতিক্ষার পর ওই দুই মৎস্যজীবি রবিবার বাঘের পায়ের ছাপ অনুসরণ করে সঙ্গীর খোঁজ শুরু করে। কিছুক্ষণ খোঁজার পর তারা গোপাল ঢালির দেহ পড়ে থাকতে দেখে। কোন প্রকারে তড়িঘড়ি দেহটি উদ্ধার করে নৌকায় তোলে।এরপর নৌকার দাঁড় বেয়ে সোমবার রাতের ঝড়খালি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। সেখান থেকে মৃতদেহ বাসন্তী থানায় নিয়ে যায়।
মঙ্গলবার সকালে দেহটি ময়না তদন্তের জন্য পাঠায় বাসন্তী থানার পুলিশ। অন্যদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী গোপাল মন্ডলের মৃত্যুতে শোকে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী মণিকা,১৯ বছরের মেয়ে মঞ্জু ও ১০ বছরের ছেলে বাবু। বাঘের আক্রমণে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় মৎস্যজীবি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সরব হয়েছে এপিডিআর। গোসাবা ব্লকের এপিডিআর এর সস্পাদক সর্বরঞ্জন মন্ডল জানিয়েছেন, ‘পেটের জন্য দরিদ্র মৎস্যজীবি সুন্দরবনের নদীখাঁড়িতে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলেন। বাঘের আক্রমণে মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারি ছিলেন গোপাল। অসহায় হয়ে পড়েছে ঢালি পরিবার। তারা যাতে খুব শীঘ্রই সরকারীভাবে ক্ষতিপূরণ পায় সেই চেষ্টা করা হবে। ’



