নুরসেলিম লস্কর, ক্যানিং : সুন্দরবনের আকাশে বহুদিন পর ফের উড়ল শকুন। চতুর্থ সুন্দরবন পাখি উৎসবে ক্যামেরাবন্দি হল একসঙ্গে দু’টি শকুন—যা ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত পাখিপ্রেমী ও পরিবেশবিদরা। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সুন্দরবন এলাকায় শকুনের উপস্থিতি চোখে পড়েনি। এমনকি আগের তিনটি পাখি উৎসবেও মেলেনি শকুনের কোনো ছবি। ফলে এবারের উৎসবে এই বিরল দৃশ্য ধরা পড়ায় বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে বিষয়টি।
গত ২৩ থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সুন্দরবনে অনুষ্ঠিত হয় চতুর্থ পাখি উৎসব। বিশ্বের বৃহত্তম ব-দ্বীপ ম্যানগ্রোভ অরণ্যে আয়োজিত এই উৎসবে অংশ নেন দেশ-বিদেশের পাখিপ্রেমী ও আলোকচিত্রীরা। সুইজারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ড থেকে আসা দুই পাখিপ্রেমীও ভারত সরকারের সমস্ত নিয়ম-নীতি মেনেই সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খাঁড়িতে ঘুরে পরিযায়ী ও স্থানীয় পাখিদের ছবি তোলেন।
উৎসব চলাকালীন প্রতিটি দলে চারজন করে ফটোগ্রাফার অংশ নেন। কয়েকদিন ধরে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘুরে তাঁরা প্রায় সব ধরনের পাখির ছবি সংগ্রহ করেন। সব মিলিয়ে এবছর প্রায় ৩৫ হাজার পাখির ছবি তোলা হয়েছে। এর মধ্যেই ধরা পড়েছে পরিবেশ থেকে প্রায় হারিয়ে যাওয়া শকুনের উপস্থিতি—যা সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ফিরে পাওয়ার ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বনদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম পাখি উৎসবে সুন্দরবনে ১৪৫ প্রজাতির পাখির সন্ধান মিলেছিল এবং তখন ছবি তোলা হয়েছিল প্রায় ৬ হাজারের কাছাকাছি। সর্বশেষ ২০২৫ সালের হিসেব অনুযায়ী, ক্যামেরাবন্দি হয়েছে ১৫৪ প্রজাতির পাখি এবং তোলা হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার ছবি। এই উৎসবের মাধ্যমে ১২টি বিপন্ন প্রজাতির পাখির ছবিও সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।
শুধু ছবি তোলাই নয়—পাখিদের আবাসস্থল, বিচরণ ক্ষেত্রের ব্যাসার্ধ, জলবায়ু ও আবহাওয়ার প্রভাবও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখে পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত পরিসংখ্যান রিপোর্ট। আর এ বিষয়ে ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা রাজেন্দ্র জাখর বলেন, “বিদেশি পাখিপ্রেমীদের অংশগ্রহণ থেকেই বোঝা যায়, সুন্দরবনের পাখি উৎসব কতটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আমাদের লক্ষ্য শুধু উৎসব নয়—বিভিন্ন প্রজাতির পাখিকে চিহ্নিত করা এবং নতুন প্রজাতির সন্ধান পাওয়ার পাশাপাশি সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ।”
দীর্ঘদিন পর শকুনের প্রত্যাবর্তন সুন্দরবনের পরিবেশে এক নতুন আশার বার্তা দিচ্ছে বলেই মনে করছেন পরিবেশবিদরা।



