রান্নার উনুনে সর্বনাশ ! আগুনে ঝলসে গুরুতর জখম দম্পতি।

রান্নার উনুনে সর্বনাশ ! আগুনে ঝলসে গুরুতর জখম দম্পতি।

নুরসেলিম লস্কর, ক্যানিং : রান্নার সময় উনুন থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুনে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। গুরুতর জখম হলেন এক দম্পতি। মঙ্গলবার দুপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবা থানার অন্তর্গত শম্ভুনগর পঞ্চায়েতের ঢালীর মোড় এলাকায় ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা। আহত দম্পতি চন্দনা নস্কর ও গৌর নস্কর বর্তমানে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের বার্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের মতে, চন্দনা নস্করের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।


স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন দুপুরে নিজেদের বাড়িতে উনুন জ্বেলে রান্না করছিলেন চন্দনা নস্কর। আচমকাই তাঁর পরনের কাপড়ে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ আকার নেয়। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকেন গৃহবধূ। চিৎকার চেঁচামেচিতে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। সেই সময় চিৎকার শুনে ঘরে ঢোকেন স্বামী গৌর নস্কর। স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে তিনিও আগুনে ঝলসে গুরুতরভাবে আহত হন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় কোনওরকমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং দ্রুত উদ্ধার করে দু’জনকে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকেরা জানান, চন্দনা নস্করের শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। তাঁকে তৎক্ষণাৎ বার্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। স্বামী গৌর নস্করও দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন।


আহত গৌর নস্কর জানান, “স্ত্রী উনুনে রান্না করছিল। হঠাৎ করে কাপড়ে আগুন ধরে যায়। আমি দৌড়ে গিয়ে কোনওরকমে উদ্ধার করার চেষ্টা করি। স্থানীয়দের সাহায্য না পেলে হয়তো আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটত।” এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চরম উত্তেজনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। প্রতিবেশীরা দম্পতির দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, দগ্ধ গৃহবধূ বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।


ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে গোসাবা থানার পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, এটি একটি নিছক দুর্ঘটনা হলেও পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন