আবারও সুন্দরবনে বাঘের হানায় নিখোঁজ মৎস্যজীবী, শোকস্তব্ধ পরিবার ।

আবারও সুন্দরবনে বাঘের হানায় নিখোঁজ মৎস্যজীবী, শোকস্তব্ধ পরিবার ।

নুরসেলিম লস্কর, সুন্দরবন : সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে বাঘের আক্রমণে নিখোঁজ হলেন এক মৎস্যজীবী। নিখোঁজ ব্যক্তির নাম প্রদীপ মণ্ডল (৩৫)। তাঁর বাড়ি গোসাবা ব্লকের সুন্দরবন কোস্টাল থানার অন্তর্গত সাতজেলিয়া পঞ্চায়েতের সুকুমারী উত্তর পাড়া গ্রামে। মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে সুন্দরবনের চামটা জঙ্গল সংলগ্ন নদীখাঁড়ি এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে প্রতিবেশী সন্তোষ মণ্ডল ও দুঃখীরাম মণ্ডল—এই দুই সঙ্গীকে নিয়ে প্রদীপ মাছ ও কাঁকড়া ধরতে সুন্দরবনের গহিন জঙ্গলের নদীখাঁড়িতে যান।

 

দুপুর প্রায় ১২টা নাগাদ চামটা জঙ্গল সংলগ্ন নদীখাঁড়িতে কাঁকড়ার দোন ফেলছিলেন তাঁরা। সেই সময় আচমকাই জঙ্গল থেকে একটি বাঘ বেরিয়ে এসে প্রদীপকে লক্ষ্য করে ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই তাঁর ঘাড়ে কামড় বসিয়ে টানতে টানতে গভীর জঙ্গলের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বাঘটি। আক্রান্ত প্রদীপকে বাঁচাতে সঙ্গী দুই মৎস্যজীবী নৌকার দাঁড় ও গাছের ডাল নিয়ে বাঘের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে মানুষ ও বাঘের মধ্যে টানাপোড়েন। তবে বাঘ তার শিকার ছাড়তে রাজি হয়নি। উল্টে বারবার হুঙ্কার দিয়ে অপর দুই মৎস্যজীবীর দিকেও তেড়ে আসে। প্রাণের ভয়ে শেষ পর্যন্ত রণে ভঙ্গ দেন তাঁরা। বাঘ প্রদীপকে নিয়ে গহিন জঙ্গলে মিলিয়ে যায়।


ঘটনার পর সঙ্গীরা নৌকায় করে রাতেই গ্রামে ফিরে এসে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। খবর পেতেই শোকে ভেঙে পড়ে নিখোঁজ মৎস্যজীবীর পরিবার। বুধবার সকালে গ্রাম থেকে একদল মানুষ দেহ উদ্ধারের উদ্দেশ্যে জঙ্গলের দিকে গেলেও বিকেল পর্যন্ত নিখোঁজ মৎস্যজীবীর দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

 

আর এই ঘটনা প্রসঙ্গে নিখোঁজ প্রদীপ মণ্ডলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ববিতা বর্মন মণ্ডল কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “আমার স্বামীই ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। সুন্দরবনের নদীখাঁড়িতে মাছ-কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে নিখোঁজ হয়ে গেল। সংসারের হাল ধরার একমাত্র প্রদীপ নিভে গেল। এখন ছেলেমেয়েদের নিয়ে কীভাবে বাঁচব বুঝতে পারছি না।” ঘটনায় এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোক ও আতঙ্ক। বনদপ্তরের তরফে উদ্ধার অভিযান জোরদার করার দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন