ভালোবাসার বন্ধনে বিশ্বাস ও প্রতিশ্রুতির বিশেষ দিন হল প্রমিস ডে ।

ভালোবাসার বন্ধনে বিশ্বাস ও প্রতিশ্রুতির বিশেষ দিন হল প্রমিস ডে

প্রশান্ত সরকারঃ ভ্যালেন্টাইনস সপ্তাহের পঞ্চম দিন হিসেবে প্রতি বছর ১১ ফেব্রুয়ারি পালিত হয় প্রমিস ডে। ভালোবাসা শুধু উপহার, ফুল বা চকলেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়—সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী ও মজবুত করে তোলে বিশ্বাস, আস্থা এবং প্রতিশ্রুতি। সেই বার্তাই তুলে ধরে প্রমিস ডে। এই দিনে মানুষ প্রিয়জনকে নানা প্রতিশ্রুতি দেয়—সবসময় পাশে থাকার, সুখে-দুঃখে সঙ্গ দেওয়ার, ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে সম্পর্ককে আগলে রাখার। প্রেমিক-প্রেমিকা, স্বামী-স্ত্রী, বন্ধু কিংবা পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।


কারণ, প্রতিশ্রুতিই হলো যেকোনো সম্পর্কের ভিত্তি। বর্তমান ব্যস্ত জীবনে অনেক সময় সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। কাজের চাপ, ভুল বোঝাবুঝি কিংবা সময়ের অভাবে সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রমিস ডে সেই সম্পর্কগুলোকে নতুন করে গড়ে তোলার একটি সুযোগ এনে দেয়। এই দিনে মানুষ খোলামেলা কথা বলে, একে অপরকে আশ্বাস দেয় এবং ভবিষ্যতের জন্য একসঙ্গে পথ চলার অঙ্গীকার করে। শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও প্রমিস ডে এখন ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তরুণ-তরুণীরা এই দিনটিকে কেন্দ্র করে ছোটখাটো আয়োজন করে।

কেউ হাতে লেখা চিঠি দেয়, কেউ ছোট উপহার বা ফুল দিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করে। আবার অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে শুভেচ্ছা বার্তা দিয়ে প্রিয়জনকে প্রতিশ্রুতির কথা জানায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে শুধুমাত্র আবেগ নয়, দায়িত্ববোধও জরুরি। প্রমিস ডে সেই দায়িত্বের কথাই মনে করিয়ে দেয়। একটি ছোট্ট প্রতিশ্রুতি যেমন—“আমি তোমার পাশে আছি”—মানুষের মনে ভরসা জোগায়, সম্পর্ককে আরও গভীর করে তোলে।


বাণিজ্যিক দিক থেকেও এই দিনটি কিছুটা প্রভাব ফেলে। কার্ড, উপহার সামগ্রী, ফুল ও ছোটখাটো স্মারক বিক্রির চাহিদা বাড়ে। তবে এই দিনের আসল সৌন্দর্য বড় উপহারে নয়, বরং আন্তরিক কথায় ও বিশ্বাসে। সব মিলিয়ে, প্রমিস ডে হলো সম্পর্ককে শক্ত করার দিন। ভালোবাসার বন্ধনে বিশ্বাস, সম্মান ও দায়িত্বের গুরুত্ব বোঝানোর এক সুন্দর উপলক্ষ। প্রিয়জনের হাত ধরে আজ একটি প্রতিশ্রুতি দিন— সুখে-দুঃখে সবসময় পাশে থাকার। হ্যাপি প্রমিস ডে। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন