আপনি কাকে ইনফ্লুয়েন্সার ভাবছেন?
প্রশান্ত সককারঃ আজকের ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়া মানুষের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম কিংবা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ নিজেদের মতামত, জীবনযাপন ও বিভিন্ন কনটেন্ট তুলে ধরছেন। এদের মধ্যেই অনেকে নিজেদের “ইনফ্লুয়েন্সার” হিসেবে পরিচয় দেন এবং বিপুল সংখ্যক ফলোয়ার অর্জন করেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো—ফলোয়ার বেশি হলেই কি কেউ প্রকৃত অর্থে অনুসরণযোগ্য বা আইকন হয়ে উঠতে পারেন?
বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, কিছু কথাকথিত ইনফ্লুয়েন্সার শুধুমাত্র জনপ্রিয়তা বা আর্থিক লাভের জন্য বিতর্কিত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কনটেন্ট তৈরি করছেন। তাদের কথাবার্তা, আচরণ কিংবা জীবনধারা অনেক সময় সমাজের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করে। অশালীন ভাষা, অযথা ট্রোলিং, মিথ্যা তথ্য প্রচার বা অন্যকে ছোট করে দেখানোর মতো প্রবণতা তরুণ প্রজন্মের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলছে। অনেক কিশোর-কিশোরী তাদের অন্ধভাবে অনুসরণ করে ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে, যা ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে সমস্যা সৃষ্টি করছে।প্রকৃতপক্ষে, একজন সত্যিকারের ইনফ্লুয়েন্সার সেই ব্যক্তি, যিনি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হন। যিনি মানুষের মধ্যে সচেতনতা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলেন। শিক্ষামূলক, সৃজনশীল বা সমাজকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে যারা মানুষকে অনুপ্রাণিত করেন, তারাই প্রকৃত আইকন। শুধুমাত্র বিনোদন বা ভাইরাল হওয়ার জন্য তৈরি কনটেন্ট কখনোই একজন মানুষকে আদর্শ করে তুলতে পারে না।বিশেষজ্ঞদের মতে, দর্শকদেরও সচেতন হওয়া জরুরি। কাকে অনুসরণ করা হচ্ছে, তার প্রভাব কী হতে পারে—এসব বিষয় ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। সোশ্যাল মিডিয়ায় যা দেখা যায়, তার সবই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই অন্ধ অনুসরণের বদলে সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা করা প্রয়োজন ।সবশেষে বলা যায়, ফলোয়ার বা জনপ্রিয়তা নয়, বরং চরিত্র, দায়িত্ববোধ ও সমাজের প্রতি ইতিবাচক অবদানই একজন মানুষকে প্রকৃত আইকন করে তোলে। তাই কথাকথিত ইনফ্লুয়েন্সারদের অন্ধভাবে অনুসরণ না করে, সচেতনভাবে প্রকৃত আদর্শ ব্যক্তিদের বেছে নেওয়াই সময়ের দাবি।

