প্রেমিক যুগলের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার,এলাকায় চাঞ্চল্য,তদন্তে পুলিশ।

প্রেমিক যুগলের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার,এলাকায় চাঞ্চল্য,তদন্তে পুলিশ।

নিজেস্ব প্রতিনিধি,সুন্দরবন - সাত সকালে বন্ধ ঘর থেকে প্রেমিক যুগলের দেহ উদ্ধার কে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ালো এলাকায়। ঘটনাটি ঘটেছে প্রত্যন্ত সুন্দরবনের গোসাবা ব্লকের সুন্দরবন কোষ্টাল থানার অন্তর্গত রাধানগর-তারানগর পঞ্চায়েতের তারানগর গ্রামে। মৃত দুই প্রেমিক যুগলের নাম সোনালী মন্ডল(২১) ও সুজিত বারুই(২৪)। পুলিশ প্রেমিক যুগলের দেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। 

স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রের খবর ,উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মালঞ্চ থানার মালঞ্চ বাসড়া কালিবাড়ি এলাকার যুবক সুজিত বারুই।সে তার মামার বাড়ি তারানগর গ্রামে থাকতো। সেখানেই প্রতিবেশী সোনালী মন্ডলের সাথে প্রেম ভালোবাসা গড়ে ওঠে। দীর্ঘ প্রায় আট বছর ধরে প্রেমপর্ব চলছিল। উভয় পরিবারের সদস্যরা প্রেমিক যুগলের ঘটনা জানতেন। জানতে পারলেও মন থেকে মেনে নিতে পারছিলেন না সোনালীর পরিবারের লোকজন,অভিযোগ স্থানীয়দের। সেই থেকে ভেঙে পড়েছিলেন প্রেমিক যুগল।সোমবার রাতে পরিবারের সকলের অলক্ষ্যে সুজিত তার প্রেমিকার বাড়িতে হাজীর হয়।তখন সোনালীর বাড়ির লোকজন ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। মঙ্গলবার সকালে সকলে ঘুম থেকে উঠলেও সোনালী না ওঠায় পরিবারের লোকজন ডাকাডাকি শুরু করে। কোন রকম সাড়া শব্দ না পেয়ে জানালা দিয়ে উঁকি মারতেই সকলের চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়।দেখতে পায় ঘরের মধ্যে প্রেমিক যুগলের দেহ ঝুলছে।এমন ঘটনা এলাকায় চাউর হতেই খবর পৌঁছায় সুন্দরবন কোষ্টাল থানায়। খবর পেয়ে সুন্দরবন কোষ্টাল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজীর হয়। ঘর থেকে প্রেমিক যুগলের দেহ উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা প্রেমিক যুগল কে মৃত বলে ঘোষনা করেন।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান প্রেমের গল্প উভয় পরিবারের লোকজন জানতেন। কোন এক পরিবার মেনে নিতে দ্বিধাবোধ করায় গলায় দড়ি দিয়ে প্রেমিক যুগল আত্মহত্যা করে। তবে ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর সঠিক তথ্য উদ্ঘাটন হবে। সুন্দরবন কোষ্টাল থানার পুলিশ মৃতদেহ দুটি ময়না তদন্তে পাঠিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। অন্যদিকে প্রেমিক যুগলের এমন মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন