শহুরে বাবুদের স্বপ্ন পূরন, সুন্দরবনের মানুষের বঞ্চনা ।

শহুরে বাবুদের স্বপ্ন পূরন, সুন্দরবনের মানুষের বঞ্চনা ।

প্রশান্ত সরকার, ঝড়খালীঃ
কলকাতার বুকে মেট্রো রেলের বিস্তার এখন এক নতুন ইতিহাস লিখেছে। নিউ গড়িয়া থেকে বিমানবন্দর, জোকা থেকে এসপ্ল্যানেড, ইস্ট–ওয়েস্ট করিডর—রাজধানী শহর ছুটছে মেট্রোর গতি ধরে। কোটি কোটি টাকার প্রকল্প, আধুনিক টানেল, উড়ালপথ, আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি—এসবই শহরকেন্দ্রিক উন্নয়নের প্রতিচ্ছবি। নগরবাসীর যাতায়াতকে আরও সহজ, দ্রুত ও আধুনিক করতে প্রতিনিয়ত নতুন রুট উদ্বোধন হচ্ছে, নতুন কোচ নামছে লাইনে। কিন্তু এর ঠিক বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছে সুন্দরবনের মানুষ। ক্যানিং থেকে ঝড়খালি রেললাইন সম্প্রসারণের স্বপ্ন ১৫ বছর আগে দেখানো হয়েছিল। মাতলা নদীর পাড়ে কয়েকটি পিলার নির্মাণের পর থেকেই কাজ থমকে আছে। জমি অধিগ্রহণ ও প্রশাসনিক জটিলতার অজুহাতে প্রকল্প প্রায় স্থবির। সুন্দরবনের লক্ষ লক্ষ মানুষ এখনও নির্ভরশীল ভাঙাচোরা সড়কপথ, খেয়া নৌকা আর ঝুঁকিপূর্ণ ভ্যান রিকশার ওপর। উন্নয়নের আলো যেখানে কলকাতার রাস্তায় ঝলমল করছে, সেখানে সুন্দরবনের মানুষ আজও অন্ধকারে।

কোলকাতা: প্রতিটি নতুন মেট্রো উদ্বোধন কেন্দ্র ও রাজ্যের মন্ত্রীদের শোভাযাত্রায় রূপ নেয়।
সুন্দরবন: ঝড়ঝঞ্ঝা, নদীভাঙন আর দারিদ্র্যের মাঝে মানুষ প্রাথমিক যোগাযোগ ব্যবস্থাই পাচ্ছে না। সুন্দরবনের অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। হাসপাতালে যেতে, কলেজে পৌঁছতে বা বাজারে পণ্য নিয়ে আসতে গিয়ে মানুষের সময় ও অর্থ নষ্ট হচ্ছে। ফলে উন্নয়নের মূল স্রোত থেকে তারা আরও পিছিয়ে পড়ছে।

যখন শহরের মেট্রো সম্প্রসারণে কয়েক হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে, তখন গ্রামীণ ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষ কেন আজও রেল সংযোগের মতো মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত? সুন্দরবন কি শুধুই দুর্যোগ আর প্রকৃতি সংরক্ষণের প্রতীক? নাকি সেখানে বসবাসকারী মানুষদেরও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার অধিকার আছে?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন