আবারও এসআইআর আতঙ্কে বৃদ্ধার মৃত্যু, এলাকায় চাঞ্চল্য !
নুরসেলিম লস্কর, জীবনতলা : আবারও এসআইআর আতঙ্কে এক বৃদ্ধার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা থানার অন্তর্গত ঘুটিয়ারীশরীফের মাকালতলা এলাকায়। মৃত বৃদ্ধার নাম গৌরী বেরা (৬৫)। শনিবার রাতে ঘুমের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, কোচবিহারের বাসিন্দা গৌরী বেরা দীর্ঘদিন ধরে ঘুটিয়ারীশরীফের মাকালতলা এলাকায় আলবাসাতো লস্করের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন। প্রায় ১০ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি ওই এলাকায় থাকতেন। কলকাতায় কাজ করতেন এবং কাজ শেষে ভাড়া বাড়িতেই ফিরে আসতেন। বেশ কিছুদিন আগে পর্যন্ত তাঁর একমাত্র ছেলে মায়ের সঙ্গে থাকলেও পরে তাঁকে একা রেখে অন্যত্র চলে যায় এবং এরপর থেকে মায়ের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখেনি সে —এমনটাই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
এলাকাবাসীদের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ওই বৃদ্ধা। তিনি স্থানীয়দের কাছে বারবার বলতে থাকতেন, পুলিশ তাঁকে ধরে নিয়ে যাবে। কারণ পুরনো ভোটার তালিকায় তাঁর নাম নেই এবং পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ না থাকায় নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারবেন না—এই আশঙ্কা তাঁকে গ্রাস করে। যদিও ঘুটিয়ারীশরীফের মাকালতলা এলাকায় তিনি ভোটার কার্ড, আধার কার্ড সহ সমস্ত প্রয়োজনীয় সরকারি নথিপত্র তৈরি করেছিলেন এবং আগের নির্বাচনে ওই এলাকাতেই ভোটও দিয়েছিলেন। বাড়ির মালিক আলবাসাতো লস্কর একাধিকবার তাঁকে আশ্বস্ত করেন যে তাঁর ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। তবুও আতঙ্ক কাটেনি বৃদ্ধার। স্থানীয়দের আরও দাবি, গত কয়েকদিন ধরে তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন এবং মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছিলেন। এরপর শনিবার রাতে আচমকাই ঘুমের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। আলবাসাতো লস্করের অভিযোগ, এসআইআর আতঙ্কের জেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।
আর মৃত্যুর পরে স্থানীয় একটি শ্মশানে ঐ বৃদ্ধার দেহ দাহ করা হয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে জীবনতলা থানার পুলিশ। আর এই ঘটনার পরে নারায়ণপুর গ্রাম-পঞ্চায়েতের প্রধান সালাউদ্দিন লস্কর বলেন, “এসআইআর আতঙ্কে বেশ কিছুদিন ধরেই ঐ বৃদ্ধা অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। হঠাৎ করেই তাঁর মৃত্যু হয়। এর থেকে পরিষ্কার যে এসআইআর আতঙ্কই এর মূল কারণ।” আর তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের এই মন্তব্যের পরে বিজেপির জয়নগর সাংগঠনিক জেলার ক্যানিং পূর্বের জেলা সদস্য অলিউল পিয়াদা ঘাস ফুল শিবিরের বিরুদ্ধে পাল্টা সুর চড়িয়ে বলেন, “একজন বয়স্ক মানুষের হৃদরোগে মৃত্যু হয়েছে। এর সঙ্গে এসআইআর-এর কোনও সম্পর্ক নেই। আর যদিও সেই আশঙ্কা থাকতো তাহলে তড়িঘড়ি দেহ সৎকার না করে ময়নাতদন্ত হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ পরিষ্কার হয়ে যেত! তাই তৃণমূল শুধু মাত্র মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য এই বিষয়টিকে রাজনৈতিক রং দিচ্ছে।” আর মৃত্যু ও এই রাজনৈতিক তরজার মাঝে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।



