গোলাপ দিবস দিয়ে ভালোবাসার উৎসব শুরু
প্রশান্ত সরকারঃ প্রতি বছর ৭ ফেব্রুয়ারি পালিত হয় ‘গোলাপ দিবস’ বা ‘রোজ ডে’। ভ্যালেন্টাইনস সপ্তাহের সূচনায় এই দিনটি ভালোবাসা, বন্ধুত্ব ও আবেগ প্রকাশের অন্যতম উপলক্ষ হিসেবে পরিচিত। তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এর জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি হলেও বর্তমানে সব বয়সের মানুষই প্রিয়জনদের গোলাপ উপহার দিয়ে এই দিনটি উদযাপন করেন। তবে এই উৎসবের আড়ালে রয়েছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক—কৃষকদের পরিশ্রম এবং ফুলকে ঘিরে বিস্তৃত বাণিজ্যিক কার্যক্রম। গোলাপ দিবসকে সামনে রেখে কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই বিভিন্ন জেলার ফুলচাষিরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন। পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুরসহ নানা এলাকায় বিস্তীর্ণ জমিতে গোলাপ চাষ হয়। চাষিরা অতিরিক্ত যত্ন নিয়ে গাছ পরিচর্যা করেন, যাতে নির্দিষ্ট সময়ে ভালো মানের ফুল বাজারে তোলা যায়।
কারণ এই সময়ে ফুলের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। একটি গোলাপের দাম সাধারণ দিনের তুলনায় দ্বিগুণ বা তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়, যা কৃষকদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ এনে দেয়। কৃষকরা জানান, গোলাপ চাষে খরচ তুলনামূলক বেশি—সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের ব্যয় থাকে। তবুও এই বিশেষ মৌসুমে ভালো দাম পাওয়ার আশায় তারা ঝুঁকি নেন। অনেক পরিবার পুরো বছর এই সময়ের আয়ের উপর নির্ভরশীল। ফলে গোলাপ দিবস শুধু আবেগের নয়, তাদের জীবিকার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। অন্যদিকে, এই দিনকে কেন্দ্র করে ফুলের বাজারে জমে ওঠে বাণিজ্য। পাইকারি বাজার থেকে খুচরো দোকান, রাস্তার স্টল থেকে অনলাইন ডেলিভারি—সব ক্ষেত্রেই বিক্রি বেড়ে যায়। ফুলের তোড়া, উপহার সামগ্রী, কার্ড, চকোলেট ও সাজসজ্জার পণ্যের চাহিদাও বাড়ে। অনেক ছোট ব্যবসায়ী ও হকার এই সময় অতিরিক্ত আয় করেন। ফলে গোলাপ দিবস স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। স্কুল-কলেজ, অফিস কিংবা সামাজিক পরিসরে গোলাপ বিনিময়ের মাধ্যমে দিনটি আনন্দঘন হয়ে ওঠে। সামাজিক মাধ্যমেও শুভেচ্ছা বার্তার বন্যা দেখা যায়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উৎসব শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে আমাদের উচিত ফুলচাষিদের পরিশ্রমের প্রতি সম্মান জানানো এবং স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে ফুল কেনার মাধ্যমে তাদের পাশে দাঁড়ানো। সব মিলিয়ে, গোলাপ দিবস কেবল প্রেম বা বন্ধুত্বের প্রতীক নয়; এটি কৃষকদের ঘাম-ঝরা পরিশ্রম, গ্রামীণ অর্থনীতি এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। একটি ছোট্ট গোলাপ যেমন ভালোবাসার বার্তা বহন করে, তেমনি এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে হাজারো মানুষের জীবিকা ও স্বপ্নের গল্প। তাই এই দিনে একটি ফুল উপহার দেওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের অবদান স্মরণ করাও সমানভাবে জরুরি।

