সুন্দরবনের ক্রীড়া ক্ষেত্রে 'নিঃশব্দ বিপ্লব' ! সেপাক টাকরো জাতীয় প্রতিযোগিতায় বাংলা দলে সুন্দরবনের ছয় খেলোয়াড়।

সুন্দরবনের ক্রীড়া ক্ষেত্রে 'নিঃশব্দ বিপ্লব' ! সেপাক টাকরো জাতীয় প্রতিযোগিতায় বাংলা দলে সুন্দরবনের ছয় খেলোয়াড়।



নুরসেলিম লস্কর, বাসন্তী : সুন্দরবনের ক্রীড়া ইতিহাসে নিঃশব্দ বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলল প্রত্যন্ত সুন্দরবনের বাসন্তী ব্লকের মসজিদবাটি এলাকার যুবক বিপ্লব নস্কর। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর থেকে জম্বু ও কাশ্মীরে অনুষ্ঠিত হবে ২১তম সাব-জুনিয়র জাতীয় সেপাক টাকরো চ্যাম্পিয়নশিপ। আর সেই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বাংলা দলে ডাক পেয়েছেন সুন্দরবনের বাসন্তীর মসজিদবাটি পার্বতী উচ্চ-বিদ্যালয় স্কুল অ্যাকাডেমির ছয় খেলোয়াড় - কল্যাণী মন্ডল,কৃষ্ণা মন্ডল,বিনায়ক সরকার,শান্তনু মন্ডল,পুষ্পক নস্কর ও শুভম মন্ডল।
    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রাম মসজিদবাটি হলেও দীর্ঘদিন ধরে এই গ্রামে সেপাক টুকরো খেলার চলত ছিল। এক সময় গ্রামের বহু যুবক-যুবতী এই খেলায় উৎসাহী হলেও ধীরে ধীরে আর্থিক অনটনের কারণে এই খেলায় ভাটা পড়ে গিয়েছিলো। কিন্তু সেই ভাটাকে সরিয়ে আবারো সুন্দরবনে সেপাক টাকরোতে জোয়ার এনে দিলেন ঐ গ্রামেরই যুবক বিপ্লব। অনেকটা ভলিবলের মত এই খেলা। তবে ভলিবল হাত দিয়ে জালের এপার ওপার করতে হলেও এই খেলায় তা করতে হয় পা ও মাথা দিয়ে।


 মূলত, মালয়েশিয়ায় এই খেলার জন্ম হলেও ভারতের মধ্যে মনিপুর রাজ্যে এই খেলা প্রথম শুরু হয়। বর্তমানে এশিয়ান গেমসেও এই খেলা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এদিকে বিপ্লবের ক্রীড়া প্রেম ও এই সেপাক টাকরো কে সুন্দরবনের মাটিতে বাঁচিয়ে রাখতে স্থানীয় মসজিদবাটি হাই স্কুলের শিক্ষক অমর নাথের সহযোগিতায় স্কুলে তৈরি করা হয় অ্যাকাডেমি। ধীরে ধীরে সমগ্র বাসন্তী ব্লকের ছেলে-মেয়েরা যোগ দিতে থাকে এই অ্যাকাডেমিতে। আর আবারো বিপ্লবের হাত ধরে সেই খবর পৌঁছে যায় সেপাক টাকরো অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সভাপতি পার্থসারথী গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে। আর সেপাক টাকরো অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সভাপতি পদে পার্থসারথী আসার পর থেকেই তিনি এই খেলার মান উন্নয়নের পাশাপাশি এরাজ্যের জেলায় জেলায় এই খেলা কে ছড়িয়ে দিতে বিশেষ উদ্যোগও গ্রহণ করেছেন। সেই উদ্যোগের ফলশ্রুতি হিসাবে জম্বু ও কাশ্মীরে আয়োজিত জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ কারী বাংলার পুরুষ ও মহিলা দলে ডাক পেয়েছেন সুন্দরবনের মোট ৬ জন খেলোয়াড়। আর এই প্রতিযোগিতায় বাংলার মহিলা দলের কোচ হিসাবে নিযুক্ত হয়েছেন রুমা ঘোষ আর পুরুষ দলের কোচ হিসাবে নিযুক্ত হয়েছেন সুন্দরবনের ক্রীড়া জগতে বিপ্লব ঘটানো সেই বিপ্লব নস্কর। প্রসঙ্গত, বিপ্লব কিন্তূ ১৯৯৯ এ ন্যাশনাল গেমসে রূপে জয়ী খেলোয়াড়। আর বিপ্লবের ন্যাশনাল গেমসের সেই অভিজ্ঞতা কে কাজে লাগাতে পার্থসারথীদের এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে বাংলার ক্রীড়া মহল। এখান দেখার বিপ্লবের অভিজ্ঞতা ও সুন্দরবনের নোনা জল আর মিঠে মাঠে তে প্রতিনিয়ত লড়াই করে বেঁচে থাকা ছেলে মেয়ে গুলো বাংলার জন্য পদক জয় করে ফিরতে পারে কিনা! কিন্তূ তা তো সময় বলবে! তবে প্রত্যন্ত সুন্দরবন থেকে জাতীয় স্তরে সুযোগ পাওয়াটা বা কম কিসের? তাই তো নোনা হওয়ার বদলে আজ সমগ্র সুন্দরবন জুড়ে শুধুই খুশির হাওয়া ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন