আরাপাঞ্চে পুকুরভিত্তিক সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থা নিয়ে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ শুরু।

আরাপাঞ্চে পুকুরভিত্তিক সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থা নিয়ে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ শুরু।


প্রশান্ত সরকার
আরাপাঞ্চ, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬: কৃষিকে আরও লাভজনক করে তোলা এবং ছোট ও প্রান্তিক কৃষকদের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার আরাপাঞ্চে শুরু হল পুকুরভিত্তিক সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থা নিয়ে পাঁচ দিনের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। সস্য শ্যামলা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র, রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ এডুকেশনাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে এবং ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদের জাতীয় কৃষি গবেষণা ব্যবস্থাপনা সংস্থার সহযোগিতায় আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ চলবে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

সুন্দরবন, পূর্ব কলকাতা জলাভূমি এবং সংলগ্ন এলাকার মোট ৪০ জন তফসিলি জাতিভুক্ত কৃষক, কৃষাণী, গ্রামীণ যুবক-যুবতী, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য, কৃষক উৎপাদক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং উদ্যোগপতি এই প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। পুকুরকে কেন্দ্র করে মাছ চাষ, কৃষিকাজ, পশুপালনসহ বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক কর্মকাণ্ডকে একসঙ্গে যুক্ত করে কীভাবে কৃষকদের আয় বাড়ানো যায়, প্রশিক্ষণে সেই বিষয়েই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সস্য শ্যামলা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের প্রধান বিজ্ঞানী ডক্টর স্বাগত ঘোষ, কৃষি প্রযুক্তি প্রয়োগ গবেষণা সংস্থার কলকাতা শাখার অধিকর্তা ডক্টর প্রদীপ দে, জাতীয় কৃষি গবেষণা ব্যবস্থাপনা সংস্থার বিজ্ঞানী ডক্টর সুরেশ কুমার মোজাড্ডা এবং ডক্টর কুলদীপ এস চৌধুরী-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সস্য শ্যামলা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের প্রধান বিজ্ঞানী ডক্টর স্বাগত ঘোষ পুকুরকেন্দ্রিক সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, প্রচলিত একক কৃষিকাজের তুলনায় সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থা কৃষকদের জন্য বেশি লাভজনক হতে পারে। এর মাধ্যমে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি, পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং সারা বছর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।

ডক্টর প্রদীপ দে সুন্দরবনের বিশেষ জলবায়ু ও পরিবেশগত পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে জানান, এই অঞ্চলে পুকুরভিত্তিক সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে ডক্টর সুরেশ কুমার মোজাড্ডা কৃষিজাত পণ্যের পরিচিতি তৈরি, বাজারজাতকরণ এবং কৃষিকে আরও লাভজনক করার উপর গুরুত্ব দেন। ডক্টর কুলদীপ এস চৌধুরী কৃষক উৎপাদক সংগঠন, কৃষক উৎপাদক সংস্থা এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে কৃষিকাজের সুবিধা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে পুকুরভিত্তিক সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থা নিয়ে তৈরি একটি প্রশিক্ষণ পুস্তিকাও প্রকাশ করা হয়। উদ্বোধনী পর্বের পর শুরু হয় বিভিন্ন প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ। আয়োজকদের আশা, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষক ও গ্রামীণ উদ্যোগপতিরা আধুনিক কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জন করে নিজেদের আয় ও জীবিকার সুযোগ আরও বৃদ্ধি করতে পারবেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন