প্রধানমন্ত্রীর মন কি বাত অনুষ্ঠানে সুন্দরবনের বাঘ বিধবাদের প্রশংসা।
নুরসেলিম লস্কর ,বাসন্তী : রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর ১৩৮ তম মন কি বাত অনুষ্ঠানে সুন্দরবন নিয়ে বেশ কিছুটা সময় ব্যায় করলেন । এদিনের মন কি বাতে তিনি সুন্দরবনে বাঘ বিধবাদের দুরবস্থার কথাও তুলে ধরেন । প্রধানমন্ত্রী বলেন,"সুন্দরবনের মানুষরাই সুন্দরবনের ইকো সিস্টেমকে তৈরি করছেন। স্থানীয় মানুষরাই ম্যানগ্রোভ লাগাচ্ছেন। যাঁদের মধ্যে অধিকাংশই মহিলা। আর এই মহিলাদের মধ্যে অনেকেই বাঘ বিধবা রয়েছেন। যাঁদের স্বামীদেরকে বাঘ আক্রমণ করে জঙ্গলে টেনে নিয়ে গিয়েছে। সুন্দরবনে মাছ বা কাঁকড়া ধরবার সময়। আজ সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বাঁচানোর জন্য তাঁরাই সবথেকে বেশি এগিয়ে এসেছেন।" বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী এদিন সুন্দরবনের ঝড়খালির বাঘ বিধবাদের প্রশংসা করে আরো বলেন, " আমরা যখন পরিবেশ রক্ষা করি তখন শুধু কাজ নয় পুরো ইকো সিস্টেমকে রক্ষা করি। যেমন,অসমের সোনাই রুপায়তে জমি অধিগ্রহণ হয়েছিল তিন বছর আগে তা মুক্ত করা হয়। অদ্ভুতভাবে সেখানে আবার হাতির দল ফিরে এসেছে । ঠিক অনুরূপ ভাবে পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনের ঝড়খালির মহিলারা ম্যানগ্রোভ রোপন ও সংরক্ষণ করে উদাহরণ তৈরি করেছে। তাঁরা নতুন করে ম্যানগ্রোভ অরণ্য তৈরি করছে।"
আর এদিন প্রধানমন্ত্রীর এই মন কি বাত অনুষ্ঠানে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের প্রশংসার কথা তুলে ধরায় যথেষ্ট আপ্লুত ঝড়খালি সহ সমগ্র সুন্দরবন এলাকার বাঘ বিধবারা থেকে শুরু করে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা । উল্লেখ্য প্রত্যেক বছর সুন্দরবনে নিয়ম করে বেশ কিছু মানুষ প্রাণ হারান বাঘের আক্রমণে। এমন কি এই দুর্ঘটনার পরে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পর্যন্ত পান না তাঁরা,অসহায় ভাবে দীন যাপণ করতে হয় তাঁদের পরিবার পরিজনদের। ফলে সেই ক্ষতিপূরণ পেতে আবার ছুটতে হয় আদালতে। যার ফলে সুন্দরবনের মানুষের জলে কুমির আর ডাঙ্গায় বাঘের সঙ্গে লড়াই করার পাশাপাশি আদালতেও লড়াই করে আদায় করতে হয় সেই ক্ষতিপূরণের টাকা।
তবে, এদিন দেশের প্রধানমন্ত্রীর মুখে তাঁদের প্রশংসার কথায় আশার আলো দেখছেন প্রত্যন্ত সুন্দরবনের বাঘ বিধবা মায়েরা। আর এবিষয়ে সুন্দবনের বাঘ বিধবাদের নিয়ে উল্লেখযোগ্য ভাবে নিরন্তর কাজ করে চলা সুন্দরবনের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ঝড়খালি সবুজ বাহিনীর অন্যতম কর্তা প্রশান্ত সরকার বলেন, " যে জঙ্গল তাঁদের থেকে সমস্ত কিছু কেড়ে নিয়ে নিঃস করে দিয়েছে সেই জঙ্গল কে তাঁরা বাঁচাতে প্রতিনিয়ত নিঃশব্দে কাজ করে যাচ্ছেন। এমন কি সেই সব মায়েদের কে অথবা মহিলাদের প্রতি পদে পদে অবহেলিত,বঞ্চিত ও নানান অপবাদ দেওয়া হয় । সেই কষ্ট নিয়ে তাঁরা কাজ করে যেতেন কিন্তূ আজকের যে সন্মান তাঁরা পেলেন আমি মনে করি আগামীতে এই ম্যানগ্রোভ সেবায় তাঁরা আরো নিজেদের কে নিকড়ে দেবেন! তবে আজকের এই সম্মানের পাশাপাশি সরকার যদি সুন্দরবনের এই বাঘ বিধবাদের নিয়ে কোন একটি নিদিষ্ট বিকল্প কর্ম সংস্থান প্রকল্পের ব্যবস্থা করে তাহলে তাঁরা আরো উপকৃত হবেন, আশা করবো ভবিষ্যতে সরকার সেই পথে হাঁটবে! যার ফলে এই বাঘ বিধবা পরিবার গুলি সমাজে বাঁচার নতুন দিশা পাবে।'


