ভালোবাসা পেলেন না সৌভিক, রক্তাক্ত হল দেবকুমারের জীবন।

সুন্দরবন টিভিঃ প্রেমিকার হাত ধরে পুজোর কেনাকাটা করেছিলেন দেবকুমার। প্রিয় মানুষটির সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু সেই ভালোবাসার মাঝেই ঢুকে পড়েছিল আরেকটি নাম—সৌভিক। আর তারপরই রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হল দেবকুমারের দেহ! পুজোর আনন্দে নতুন জামাকাপড়ে সেজে প্রিয় মানুষটির সঙ্গে কাটবে প্রতিটি মুহূর্ত—এমনই তো স্বপ্ন ছিল দেবকুমারের। 

বেঙ্গালুরুতে নার্সিং পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ২৫ বছরের দেবকুমার গায়েন। ছোটো বেলায় মায়ের মৃত্যুর পর ঠাকুরদা ঠাকুমার কাছে মানুষ হওয়া। তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে ভীনরাজ্যে চলে গেছিলেন পড়াশুনা করতে। পুজোর ছুটি পেয়ে ফিরে এসেছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঝড়খালী কোস্টাল থানার পার্বতীপুর গ্রামের বাড়িতে। ৪ অক্টোবর প্রেমিকার হাত ধরে পুজোর কেনাকাটাও করেছিলেন তিনি। পছন্দের পোশাক কিনেছিলেন। হয়তো প্রিয় মানুষটির সঙ্গে ভবিষ্যৎ নিয়েও অনেক স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরেই সেই স্বপ্ন পরিণত হয় দুঃস্বপ্নে। রাতে স্কুটি নিয়ে হবু শশুর বাড়ি থেকে খাওয়া দাওয়া সেরে বাড়ির উদ্যেশ্য বেড়িয়ে পড়েন কিন্তু বাড়ির পথ না ধরে অন্য পথে  ঢুকে পড়েন দেবকুমার। বিকট শব্দের কারণে গ্রামের আসেপাসের মানুষ ছুটে আসেন । রাস্তার ধারে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় দেবকুমারের দেহ। প্রথমে দুর্ঘটনা মনে হলেও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে সামনে আসে গুলির আঘাতের সন্দেহ।

বাসন্তী গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপরই তদন্তে নামে পুলিশ। দেবকুমার ও তাঁর প্রেমিকা মিঠি মণ্ডলের বন্ধু-বান্ধবীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তকারীরা। আর সেই জিজ্ঞাসাবাদ থেকেই তদন্তে উঠে আসে একটি নাম—সৌভিক মণ্ডল। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সৌভিক মণ্ডল একাধিকবার মিঠি মণ্ডলকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মিঠি নিজেই সৌভিকের প্রেমের প্রস্তাবের কথা স্বীকার করেছেন এবং সেই প্রস্তাব তিনি গ্রহণ করেননি বলেও জানিয়েছেন। তারপরই তদন্তকারীদের সন্দেহের কেন্দ্রে চলে আসে সৌভিক। 

পুলিশ সৌভিক মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। আর সেই জেরাতেই নাকি সামনে আসে দেবকুমার, মিঠি এবং সৌভিককে ঘিরে এক ত্রিকোণ প্রেমের কাহিনী। তদন্তকারীদের হাতে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, দেবকুমারকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সৌভিকের ভূমিকা রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে এখানেই শেষ নয়। এই ঘটনার পিছনে সৌভিক ছাড়াও আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, হত্যার নেপথ্যে সঠিক কারণ কী, কীভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল—সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। অন্যদিকে, যে ভালোবাসাকে ঘিরে এত স্বপ্ন ছিল দেবকুমারের, সেই ভালোবাসাই কি শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াল? যে মানুষটির হাত ধরে পুজোর বাজার করেছিলেন। যে মানুষটির সঙ্গে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই মিঠির জীবনে কি সত্যিই ঢুকে পড়েছিল তৃতীয় একজন? আর সেই সম্পর্কের টানাপোড়েনই কি কেড়ে নিল দেবকুমারের জীবন? প্রশ্নের উত্তর এখনও তদন্তাধীন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, পুলিশের তদন্ত এবং ধৃত সৌভিকের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে ধীরে ধীরে সামনে আসতে পারে গোটা ঘটনার আসল রহস্য। পুজোর আনন্দে প্রিয় মানুষটির সঙ্গে জীবনকে নতুন করে সাজানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন দেবকুমার। কিন্তু পুজোর আগে থেমে গেল তাঁর জীবন। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন